প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাঙ্গাইল থেকে কিশোরীকে এনে সিলেটের বিশ্বনাথে হত্যা

গ্রেপ্তারকৃত শফিক মিয়া পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী রুমি আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তাদেরকে গ্রেফতারের পর বুধবার (১৯সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় বিশ্বনাথ থানায় প্রেস কনফারেন্সে ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, শফিক মিয়া টাঙ্গাইল জেলায় মির্জাপুর থানার সোহাগপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে নাছির গ্লাস ফেক্টরিতে চাকুরী করে আসছিলো। সে গত ৪সেপ্টেম্বর মির্জাপুরস্থ কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার শাশুড়ীকে দেখতে যায়। এসময় হাসপাতালে শাশুড়ীর পাশের বেডে থাকা চিকিৎসাধীন থেলাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত রুমি আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় সফিক মিয়ার। একপর্যায়ে সফিকের প্রেমের ফাঁদে পড়েন রুমি আক্তার এবং গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে রুমিকে নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলার রামচন্দ্রপুর নিজ বাড়িতে পালিয়ে আসে সফিক। এরপর রুমিকে ধর্ষণ করে ওই দিন বিকেলে বাড়ির পিছনের খালে হাত পা বেধে হত্যা করে পানিতে ডুবিয়ে রাখে সফিক এবং সন্ধ্যার পর রুমির মরদেহটি স্থানীয় তবারক আলীর বাড়ির রাস্তায় রেখে সে পালিয়ে যায় সুনামগঞ্জ তার বোনের বাড়িতে। পরদিন সে ফের টাঙ্গাইল চলে যায়।


ঐ নাম্বারের সূত্রধরে তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি বাংলালিংক নম্বর হতে লাশের সাথে পাওয়া নম্বরের ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলে সকল তথ্য উদঘাটিত হবে বলে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জকে জানালে তাৎক্ষণিক বাংলালিংকের ঐ নম্বর সনাক্ত করে প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঐ ব্যক্তির অবস্থান সনাক্ত করা হয়। আসামী গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা বাংলালিংকের নম্বর পর্যালোচনায় দেখা যায় উক্ত নম্বরে সাথে বিশ্বনাথের আশুগঞ্জ বাজারের জনৈক ইমরান আহমেদ রিয়াদ কয়েক দফায় যোগাযোগ করে এবং বাংলালিংকের উক্ত নম্বরটি বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করে। ফলে এতে প্রমাণিত হয় যে, অত্র থানাধীন স্থানীয় রামচন্দ্রপুর সাকিনের ইমরান আহমেদ রিয়াদের সাথে বাংলালিংকের গ্রাহকের কোন না কোনভাবে পরিচয় আছে। ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যথারীতি থানায় আনা হলে প্রাপ্ত নাম্বারসমূহ বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে বাংলালিংক নাম্বারসহ নিহত রুমী আক্তারের সাথে যোগাযোগকারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিটি অত্র থানাধীন রামচন্দ্রপুর সাকিনের জনৈক শফিক মিয়া।
সে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানাধীন নাছির গ্লাস ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করে এবং ওই ফ্যাক্টরীর কর্মরত এক মহিলার সাথেও সে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। উক্ত মহিলার শরনাপন্ন হলে তার দেওয়া তথ্যমতে শফিক মিয়াকে ১৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৬ টায় নাছির গ্লাস ফ্যাক্টরী হতে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত তার মোবাইল ফোনের সন্ধান দেয়। পরবর্ততে শফিক মিয়ার দেওয়া তথ্যমতে ওসি’কে ফোন করে হত্যাকান্ডেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকায় সফিক মিয়ার স্ত্রী সোনালী আক্তার হিরা’কে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় গাজীপুর জেলার চৌরাস্তা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ওসি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত শফিক মিয়া একজন নারী পিপাসু ও লম্পট প্রকৃতির লোক। সে মোট ৮টি বিয়ে করেছে। বর্তমানে সে ৪জন স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছে। একটি গণধর্ণন মামলার প্রলাতক আসামী হয়ে সে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্নগোপনে থেকে সবার অগোচরে নিরীহ মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একের পর এক হত্যা ও ধর্ষণ করে বেড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় রুমি আক্তার তার প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে প্রাণ হারায়।

from সিলেট – দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ https://ift.tt/2PMvUyc
September 19, 2018 at 06:35PM
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন