
জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর জন্ম ১৯৩২ সালের ১২ মে (জাতীয়পরিচয়পত্র অনুযায়ী) উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি দেশমাতৃকার টানে ঝাপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিসংগ্রামে। মীর শওকত আলীর নেতৃত্বাধীন ৫নং সেক্টরের ভুলাগঞ্জ হতে ছাতক পর্যন্ত অঞ্চলে যুদ্ধ করে দেশকে হায়েনামুক্ত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এই সাহসী সন্তান। তাঁর মুক্তিবার্তা নং ০৫০১০৯০০৩২। গেজেট নং ১৪৬৩। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাড়িতে ফিরে দু’দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও টিকেনি তার সংসার। বর্তমানে বড়ভাই তৈয়্যব আলীর পরিবারের সাথে বসবাস করছেন তিনি।
সরেজমিন এই মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে গ্রামের বাড়ি উপজেলার তাতিকোনা গ্রামে গেলে দেখা যায়, বড়ভাই তৈয়ব আলীর পাকা বসতঘরের একটি নোংরা ও দুর্গন্ধময় কক্ষে ময়লা বিছানায় শুয়ে আছেন তালেব আলী। যে কক্ষটিকে হাঁস-মোরগের বাসস্থান হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। সালাম দিতেই বহু কষ্টে উঠে বসলেন। কথা হল স্ত্রী-সন্তানহীন জাতির এই সূর্যসন্তানের সাথে। জানালেন, ‘আগে বাড়ির পূর্ব দিকের একটি ঘরে বসবাস করতাম। একবার ডাকাতের কবলে পড়ে ভয়ে বড়ভাইয়ের বসতঘরে চলে আসি।’ তাই বলে হাঁস-মোরগের ঘরে কেন?-এমন প্রশ্নে তালেব আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আর কোনো কক্ষ খালি না থাকায় আমিই স্বেচ্ছায় এই ঘরটিকে বেঁচে নেই। নিজের একটি ঘরের জন্যে অনেকের কাছে ছুটে গিয়েছি। কোনো সাড়া পাইনি। আমার নিজস্ব জায়গা আছে। সরকার যদি সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে দিত, তাহলে শেষ বয়সে অন্ততঃ নিজের ঘরে বসবাস করতে পারতাম’।
তালেব আলীর বড় ভাই তৈয়ব আলী সাংবাদিকদের বলেন, সে জোর করেই ওই ঘরে থাকছে। তবে, আমরা তাকে ঠিকমতই দেখাশোনা করছি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াহিদ আলী বলেন, বড় ভাইয়ের পাকা বসতঘরে তো তালেব আলীর জায়গা পাবার অধিকার আছে। একটি ভাল কক্ষে অথবা যে কক্ষে বর্তমানে আছে, সেটাকে বাস উপযোগী করে তাকে ভালভাবে জীবনযাপন করতে দেয়া তার পরিবারের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে আমি সরকারেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলীর বাড়ী সরেজমিন পরিদর্শন করে এ বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
from সিলেট – দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ https://ift.tt/2Jszo7k
October 31, 2018 at 02:45PM
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন