‘মনোওয় ই রাস্তার কোনো মাই-বাপ নাই এর লাগিই অতবাদ অবস্থা’
মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা-বৈরাগীবাজার রাস্তার বেহাল দশা দেখে ছেলে-বুড়ো সকলেই যেন একসঙ্গে বলতে চায় ‘মনোওয় ই রাস্তার কোনো মাই-বাপ নাই এর লাগিই অতবাদ অবস্থা’। বৈরাগী বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া সঙ্গে থাকা সদ্য লন্ডন থেকে দেশে ফেরা প্রবাসী মহিলা ইয়াসমিন বেগম বললেন “মাই গো ই কিতা অত বড় বড় গাত, ইকটা কিতা রাস্তানি না আর কোনতা। মনোওয় ই রাস্তার কোনো মাই-বাপ নাই। দেখতে ডর করে। ইলা রাস্তার অবস্থা হইলে দেশ না আওয়াউতো ভালা”। রামপাশা- বৈরাগীবাজার অধিবাসীদের যাতাযাতের এই ব্যস্ততম সড়কের অবস্থা দেখলে যে কেউ ভয় পায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছেন উপজেলার মানুষ এর পাশিপাশি ঝুঁকির মধ্যেই চলছে যানবাহন। এ সড়কের এমন করুন দশা থাকলেও এটি মেরামত কিংবা দেখার যেন কেউ নেই। সড়কটি ভাঙতে ভাঙতে বড় বড় গর্ত হয়েছে। সড়কের এত বড় বড় গর্ত ও খানা খন্দের কারনে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল করছে জীবনের ঝুকিনিয়ে। এলাকাবাসীর জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিয়ে মহাসমস্যায় থাকার পরও কর্তৃপক্ষ দিনের পর দিন সড়কের এমন করুন দশা দেখেও না দেখার বান করে বসে আছেন। তবে এত খারাপ সড়ক হওয়ার পরও থেমে নেই এখনকার বাস, ট্রাক, অটোরিকশা,টেম্পু, লাইটেস, কার,জীপসহ সকল গাড়ীর চালকদের জীবনের চাকা। তারা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিতে বের হচ্ছেন গাড়ী নিয়ে। সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারনে গাড়ী সড়ক দিয়ে চলাচলের ফলে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে গাড়ী গুলোর যন্ত্রপাতি। এছাড়া এ সড়ক দিয়ে রোগী নিয়ে চলাচল করতে জনসাধারনকে পোহাতে হচ্ছে নানান দূর্ভোগ। করতে হচ্ছে অনেক হিসেব-নিকাশ। সড়কের এই করুনদশা রোগীদের শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ করে দিচ্ছে। রোগী ছাড়াও সুস্থ শরীরের মানুষ জন্যও এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচল করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিগগিরই সড়কগুলোর সংস্কার কাজ করে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষকে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে এবং ঘটছে ছোট-বড় দূর্ঘটনা।
জানা গেছে, রামপাশা-বৈরাগী বাজার সড়কে ২০১৫ সালে সংস্কার কাজ করা হয়। কিন্তু সংস্কারের কিছু দিন যেতে না যেতেই ফের সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হতে থাকে গর্ত। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর ও ছাতক এই তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের মন্তব্য সড়কের এমন বেহাল অবস্থা দেখবে কে? এলাকার কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিশ্বনাথসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু সড়কের এমন অবস্থা দেখেও যেন না দেখার বাহনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ব্যবসায়ী রিপন আহমদ, মনির জামিল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এত বড় বড় গর্ত হয়েছে সড়কে তারপরও খবর রাখেননি কেউ। প্রায় সময় সড়কে দূর্ঘটনা ঘটে, অনেক যাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। জরুরী ভিত্তিতে সড়কের সংস্কার কাজ করার জন্য দাবি জানিয়েছেন তারা’।
বাস চালক কবির মিয়া বলেন, ‘প্রায় সময় সড়ক গর্তের কারণে ছোট-বড় দূর্ঘটনায় পড়তে হয়। পাশাপাশি সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত’।
অটোরিশকা চালক তজম্মুল আলী বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাই। জীবন-জীবিকার তাগিদে গাড়ি না চালিয়েও পারিনা তাই বাধ্য হয়ে এসড়ক দিয়ে গাড়ি চালাই’।
এব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অতি শিগগিরই এ সড়কের সংস্কারকাজ করা হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করি।’
from সিলেট – দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ https://ift.tt/2FuHON0
November 18, 2018 at 12:03PM
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন