নিদাহাস ট্রফির পর তাঁর সময়টা কেটেছে একটু অন্যভাবেই। সতীর্থদের বেশির ভাগই খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বিসিএলে। মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ সাব্বির রহমানের সে উপায় ছিল না। ১৮ মার্চের পর থেকে ম্যাচ প্রস্তুতির জন্য তাই খেপ খেলে বেড়িয়েছেন। সে জন্য কখনো সিরাজগঞ্জে ছুটে গেছেন তো কখনো অন্য কোনো জেলায়। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার এই সময়টা তিনি কাজেও লাগিয়েছেন বলে দাবি। কিভাবে? তারই ফিরিস্তি দিতে গিয়ে সাব্বির এও জানালেন যে কাজে লাগানো সময়টা তাঁকে আগামী কয়েক বছর সুফলও দেবে, দুই মাস বাইরে ছিলাম। বিসিএল খেলতে পারিনি, মিস করেছি। মিস করেছি প্রিমিয়ার লিগও। কখনো কখনো এই বাইরে থাকাকেও ইতিবাচক মনে হয় আমার। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। আম্মু অসুস্থ ছিলেন। তাঁর পাশে থেকেছি। ব্যক্তিগত অনুশীলনও চালিয়ে গেছি এর মধ্যে। নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। টেকনিকের কিছু ভুল ছিল, কাজ করেছি সেগুলো নিয়েও। সময়টা ভালোই কেটেছে। আশা করি, পরের কয়েকটি বছরও ভালো যাবে আমার। এমন সময়ে কথাগুলো বললেন, যখন পেছনে বাংলাদেশের সবশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বড় ইনিংস খেলার স্মৃতি সাব্বিরের। তাও আবার সেটি কোথায়? কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে। ৫০ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৭৭ রানের ইনিংস খেলার আগে অবশ্য টুর্নামেন্টজুড়েই নিজেকে খুঁজে পেতে লড়েছেন সাব্বির। এর আগে দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেও বড্ড বাজে সময় গেছে তাঁর। সব মিলিয়ে যখন দলে জায়গা হারানোর মতো অবস্থা, তখনই নিদাহাস ট্রফির ফাইনালের ইনিংসটি লাইফলাইন হয়ে ওঠে তাঁর। এবার সামনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেই সিরিজ সামনে রেখে ৭৭ রানের ইনিংসটিই সাব্বিরের প্রেরণা, নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচটি যেভাবে খেলেছি, অবশ্যই সেটি আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এর আগের ম্যাচগুলোতে নিজেকে সেভাবে প্রয়োগ করতে পারিনি। ফাইনালে যেভাবে চেয়েছি, সেভাবেই নিজেকে প্রকাশ করতে পেরেছি। পরের ম্যাচগুলোর জন্য যা আমাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তাঁর দৃষ্টিতে, আমার কাছে মনে হয় রানের চেয়ে বড় কিছু নেই। রান করলেই সব ঠিক। মাঝে বেশ কিছুদিন রানে না থাকা সাব্বিরের জন্য সময়টি আরো বেশি কঠিন গেছে ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলতে না পারায়। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েও নিজেকে তৈরি রাখার চেষ্টায় কমতি ছিল না বলছেন, প্রতিটি দিনই আমার জন্য চ্যালেঞ্জের। প্রতিটা সুযোগ যখন আসে, মনে হয় এটা আমার নতুন চ্যালেঞ্জ। এটা গ্রহণ করাই আমার কাজ। নতুন দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করি। নিজে থেকে প্রস্তুতির প্রতিফলনও দেখতে চান আফগানিস্তান সিরিজে, গত দুই মাসে ভালো যে কাজগুলো করেছি, সেটা যেন মাঠে দেখাতে পারি এবং ইতিবাচক থাকতে পারি। তিনটি ম্যাচেই ভালো কিছু করতে চাই। আফগানিস্তান সিরিজে নিজেকে প্রচুর রান করা ব্যাটসম্যান হিসেবে দেখতে চাই। আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা তাই বলে রান করা খুব সহজ হবে না আফগানিস্তানের বিপক্ষে, বলে রাখলেন সেটিও, টি-টোয়েন্টিতে ছোট দল, বড় দল বলে কিছু নেই। সবাই বড় দল। আফগানিস্তানও খুব ভালো দল হয়ে উঠছে আস্তে আস্তে। ওদের তিন-চারজন খেলোয়াড় তো বিশ্বমানেরও। তবে বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে আমাদেরও। আশা করছি খুব ভালো একটি সিরিজই হবে। ভারতের দেরাদুনে ৩, ৫ ও ৭ জুন অনুষ্ঠেয় সিরিজের আগে আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে আফগানরা এগিয়েও আছে। তবে র্যাংকিংয়ের হিসাবে না গিয়ে সাব্বির বলে রাখলেন, অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছে প্রতিপক্ষের চেয়ে। যে অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশকে সিরিজ জেতাবে বলেও বিশ্বাস তাঁর, অবশ্যই আমরা অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকব। আফগানিস্তান দলে হয়তো তিন-চারজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছেন। তবে আমাদেরও অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন। আশা করি অভিজ্ঞতা দিয়েই আমরা ম্যাচ জিততে পারব। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ের চাহিদা থাকলেও সব সময় তেমন মারমুখী হওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না সাব্বির, আমরা যাঁরা মাঝের ওভারগুলোতে (৭-১৪ ওভার) খেলব, বলে বলে রান করতে পারলেই প্রতিপক্ষকে বড় লক্ষ্য দেওয়া যাবে। অন্তত ৪৮ বলে ৬০-৭০ করতে পারলেই হবে। সে জন্য চার-ছক্কা মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার দরকার নেই। বলের মেধা হিসাব করে খেললেই বড় স্কোর গড়া যাবে। মাঝে নিজে থেকেই অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার সময়টিই তাহলে সাব্বিরের মাঝে এই উপলব্ধির জন্ম দিল! তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ আরএস/০৯:০০/ ২০ মে



from First Bangla interactive newspaper - Deshe Bideshe https://ift.tt/2LhTGkm
May 20, 2018 at 10:50PM
20 May 2018

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

:) :)) ;(( :-) =)) ;( ;-( :d :-d @-) :p :o :>) (o) [-( :-? (p) :-s (m) 8-) :-t :-b b-( :-# =p~ $-) (b) (f) x-) (k) (h) (c) cheer
Click to see the code!
To insert emoticon you must added at least one space before the code.

 
Top