ঢাকা, ২১ জুন- ঢালিউডের বিউটি কুইনখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা এখন ঢাকায়। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের মন এবং চলচ্চিত্রের মানুষের খুব কাছে আছেন তিনি। সম্প্রতি প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক আজিজুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জন্য সহযোগিতা চাইতে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শাবানা। এ প্রসঙ্গে ও অন্যান্য বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেছেন এ প্রতিবেদক। কেমন আছেন? আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে, সবার দোয়ায় বেশ ভালো আছি। আশা করি আপনারাও ভালো আছেন। জী হ্যাঁ, আমরাও ভালো আছি। চলচ্চিত্র আর এদেশের মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দূরে আছেন, সবাই কিন্তু আপনাকে খুব মিস করে- সত্যি কথা বলতে আমি দেশে না থাকলেও কারও কাছ থেকে দূরে নেই। প্রতিটা মুহূর্তে দেশ, দেশের মানুষ আর চলচ্চিত্রের খবর নেই। আমিও সবাইকে খুব মিস করি। কিন্তু কী করব, যুক্তরাষ্ট্রে যখন স্যাটেলড হয়েই গেছি তখন চাইলেই যখন খুশি চলে আসতে পারি না। তারপরেও প্রতি বছর দুই-একবার কিন্তু দেশে আসি। যদিও এটি পুরনো প্রশ্ন, পাঠকের জানার জন্য আবারও করছি, হুট করে প্রবাসী হয়ে গেলেন কেন? আসলে হুট করে নয়, আমার ছেলেমেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করত। তাদের সেখানে একা থাকতে কষ্ট হতো। তাছাড়া আমার স্বামীর ব্যবসাও ছিল সেখানে। ঘন ঘন আসা-যাওয়া করে সব দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের শেষ দিকে স্থির করলাম যুক্তরাষ্ট্রেই স্যাটেলড হব। ব্যস এভাবেই সেখানে চলে যাওয়া। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন, এ বিষয়ে কিছু বলুন- প্রথমেই বলতে চাই সবার কাছ থেকে এতদিন শুনে এসেছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক বড় মনের একজন মানুষ, তিনি খুব উদার। চলচ্চিত্রসহ যে কোনো অঙ্গনের মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় তিনি তাদের পাশে দাঁড়ান, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সেই সত্যতা পেলাম। তার আন্তরিকতায় আমরা সবাই মুগ্ধ। আমার সঙ্গে আমার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক, নায়ক আলমগীর, মৌসুমী, নির্মাতা গুলজার সাহেবসহ অনেকেই ছিলেন। তিনি আমাকে দেখামাত্র জড়িয়ে ধরেছেন। আমাদের কাছে পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পরম যত্নে আতিথেয়তা করেছেন। আসলে তার মতো এত বড় উদার মনের মানুষ পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি বলে সত্যিই আমরা ভাগ্যবান। চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি কী বলেছেন? চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন। আমরা তাকে জানিয়েছি সিনেমা হল বন্ধ রোধ করা না গেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। তিনি বলেছেন প্রতি উপজেলায় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে এবং তাতে সিনেপ্লেক্স রাখা হবে। যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের বিষয়টিও তাকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে আর কী করা যায় সেই প্রস্তাবনাও তিনি আমাদের কাছে চেয়েছেন। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অসুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা আজিজুর রহমানের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্বভারও তিনি গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রাপ্তি ঘটেছে আমাদের। আমরা সবাই তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। চলচ্চিত্রে ফিরবেন? অভিনয় নয়, নির্মাতা হিসেবে অনেক আগেই ফিরতে চেয়েছিলাম, আমার ও ওয়াহিদ সাদিকের এস এস প্রোডাকশনের মাধ্যমে কয়েক বছর আগে ভারতের সঙ্গে যৌথ আর স্থানীয়ভাবে কয়েকটি ছবি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু চলচ্চিত্র ব্যবসার মন্দাবস্থার কারণে আর এগুতে পারিনি। যৌথ প্রযোজনাসহ নানা ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র ব্যবসার উন্নতি এখনো হয়নি। যদি কখনো এই শিল্পের সুদিন ফেরে তাহলে অবশ্যই আবার নির্মাণে ফিরব। কয়েক বছর আগে খবর বেরিয়েছিল আপনি রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন, আসলে কী তাই? না, আমার পক্ষে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়, যেহেতু বিদেশে থাকি তাই সময় কিভাবে দেব। আমার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক হয়তো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তাকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাছাড়া যশোরের কেশবপুরে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন অনেকদিন ধরে। ওয়াহিদও যুক্ত হতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন, এক্ষেত্রে বিশেষ কোনো কারণ কী আছে? না, তেমন কোনো কারণ নেই, দীর্ঘ সময় অভিনয় আর চলচ্চিত্র নির্মাণ করলাম। পরিবারকে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। একটা সময় মনে হলো এবার সংসার আর ধর্ম-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার সময় এসেছে। পুরোদমে সংসার আর নামাজ-দোয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। এজন্য হয়তো সবার সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তারপরেও আমার দেশের মানুষ এখনো আমাকে মনে রেখেছে- একথা জানতে পারলে গর্ব আর সবার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে যায়। আর/০৭:১৪/২১ জুন



from First Bangla interactive newspaper - Deshe Bideshe http://ift.tt/2rOD0ej
June 21, 2017 at 01:47PM

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Top