মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: জন্মের পর থেকেই আবদুর রাজ্জাক (৪৫), সাজনা বেগম (৩৭) ভাই বোন তারা শারিরীক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। উপজেলার পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামের মৃত জফর আলীর প্রথম মেয়ে সাজনা বেগম। প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডের জন্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি। শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে চলছে তাদের জীবন। তাদের জন্মদাতা বাবা ও মা তাদেরকে ছোট রেখেই পরপারে চলে যান। বাবা, মা মারা যাওয়ার পর প্রতিবন্ধী রাজ্জাক, সাজনার একমাত্র বোন রাহেনা বেগম পরিবারের হাল ধরেন। যে হাল ধরা একজন নারীর পক্ষে অসম্ভব।
রাহেনা বেগম ভাই বোনকে রেখে বিয়ের পিড়িতে বসেন। কিন্তু স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে সংসার করেন পিতার বাড়ি। রাহেনার ১ ছেলে ১ মেয়ে সন্তান জন্মের পর মারা যান তার স্বামী। স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রতিবন্ধী ভাই বোন আর নিজের সন্তানসহ ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন অনেকটা খেয়ে না খেয়ে। আত্বীয়-স্বজনের সহযোগিতায় রাহেনার এ ধারা বর্তমানেও অব্যাহত আছে। প্রতিবন্ধি আবদুর রাজ্জাক সরকারী ভাতা পান। কিন্তু বোন সাজনা বেগমের ভাতা আজো হয়নি। বিভিন্ন অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে বোনের ভাতা না হওয়ায় ক্ষোভের অন্ত:নেই রাহেনার।
এ ব্যাপারে রাহেনা বেগম বলেন, একজন নারী হিসেবে ৫ সদস্যের পরিবার চালানো যে কত কষ্ট সেই বিষয়টা আমার মত কেউ না হলে জানবেন না। আমি বিধবা আমারও রয়েছে দুই সন্তান। তাদের পড়ালেখা চালানোসহ একটা সংসার চালানো খুবই কঠিন।
তিনি বলেন, বর্তমানে আত্বীয়-স্বজনের সহযোগিতা ও বিভিন্ন বিত্তবানদের সহযোগিতায় কোনো মতে চলছে সংসার। রাহেনা বোনের সরকারী ভাতা পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছয়ফুল হক বলেন, রাহেনার একজন ভাইকে প্রতিবন্ধি ভাতা দেয়া হচ্ছে। সাজনা বেগমের বিষয়টা আমাদের চিন্তায় আছে। ভাতা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় সবাইকে দিতে পারছিনা না। সরকার ভাতা বৃদ্ধি করলে আমরা আরো দিতে পারব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, সমাজসেবা অফিস ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
from সিলেট – দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ http://ift.tt/2mggF4k
January 09, 2018 at 03:28PM
0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Click to see the code!
To insert emoticon you must added at least one space before the code.